
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি সকালের দিকে এই ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর বেলা ১১টা থেকে ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়। তবে এই বিভ্রাটের মধ্যেও বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট সচল রাখা সম্ভব হয়েছে এবং সেখান থেকে স্বাভাবিক নিয়মে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বন্ধ হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে কমপক্ষে চার দিন সময় প্রয়োজন হতে পারে। এই মুহূর্তে ত্রুটি সারানোর জন্য প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ঠিক কী ধরনের কারিগরি জটিলতার কারণে ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হলো, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে এই বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যার অংশ হিসেবে ২০১২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে ষোলো হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয়। দীর্ঘ নির্মাণকাজ শেষে ২০২২ সালের শেষ দিকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসে এবং এর পরের বছর পরীক্ষামূলকভাবে দ্বিতীয় ইউনিট চালু করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দ্বিতীয় ইউনিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাত্রা শুরু করে। তবে বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি ও নানা জটিলতার কারণে বাণিজ্যিকভাবে চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত বহুবার এই কেন্দ্রটির উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত বা বন্ধ হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বর্তমান ত্রুটি দ্রুত কাটিয়ে উঠে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটটিকে পুনরায় জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত করা সম্ভব হবে।