
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের নিয়ন্ত্রित অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত অস্ত্র তৈরির একটি গোপন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে। মূলত গাইডেড রকেট এবং নানা ধরনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কোড তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অপচেষ্টা চালানো হয়। দেশটির উত্তর অঞ্চলে পরিচালিত এসব গোপন প্রকল্পে ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ পায় যে, হুতিদের শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এই অপকর্মে অ্যানথ্রপিকের তৈরি জনপ্রিয় এআই টুল 'ক্লথ' ব্যবহার করেছিলেন। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং মাঝপথে সেগুলোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কাজে সফটওয়্যার তৈরির জন্য এআইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষামূলকভাবে ছোঁড়া একটি নির্দেশিত রকেট ব্যর্থ হওয়ার পর, সেই ব্যর্থতার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহীরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। অস্ত্র তৈরির বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করে সফটওয়্যারের ব্যবহারিক ক্ষেত্র সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে একাধিক খণ্ড সেশনে ভাগ করা হয়। এর ফলে প্রারম্ভিক পর্যায়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট সেশনে পুরো পরিকল্পনাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজরে আসেনি। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যানথ্রপিক তাদের প্রতিবেদনে এমন আরও বেশ কিছু উদ্বেগজনক ঘটনার উল্লেখ করেছে যা বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
অ্যানথ্রপিকের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল ইয়েমেনেই নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের অপচেষ্টা চলছে। কিছু বিজ্ঞানী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরির সহায়ক গবেষণা চালানোর চেষ্টা করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি নির্দিষ্ট অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে নিশানা করার লক্ষ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি মালির রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে জড়িত একজন পরামর্শকও অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করতে এআইয়ের অপব্যবহারের চেষ্টা চালিয়েছিলেন।